*🪷শ্রীমদ্ভগবতগীতা🪷*
*শ্রীমদ্ভগবতগীতা-মঙ্গলধ্যানং*
*ওঁ পার্থায় প্রতিবোধিতাং ভগবতা নারায়ণেন স্বয়ম্*
*ব্যাসেন গ্রথিতাং পুরাণমুনিনা মধ্যে মহাভারতম্৷*
*অদ্বৈতামৃতবর্ষিণীং ভগবতীমষ্টাদশাধ্যায়িনীম্*
*অম্ব ত্বামনুসন্দধামি ভগবদ্ গীতে ভবদ্বেষিণীম্ ॥১॥*
🙏🕉️🙏
পূর্ব পাঠের পর👇
*🕉️শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা🕉️*
🪷*চতুর্থ অধ্যায় — জ্ঞানযোগ*🪷
*শ্লোক — ১*
*📖 মূল সংস্কৃত শ্লোক:*
*শ্রীভগবানুবাচ।*
> *ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্।*
> *বিবস্বান্ মনবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ॥ ৪.১॥*
*পদচ্ছেদ*-
শ্রীভগবান উবাচ।
ইমম বিবস্বতে যোগম প্রোক্তবান অহম অব্যয়ম্।
বিবস্বান্ মনবে প্রাহ মনু ইক্ষাকবে অব্রবীৎ॥
*শব্দের অর্থ :*
শ্রীভগবান্ উবাচ (শ্রীভগবান বললেন); ইমম্ (এই); বিবস্বতে (সূর্যকে); যোগম্ (যোগ / জ্ঞানযোগ); প্রোক্তবান্ (বলেছিলাম); অহম্ (আমি); অব্যয়ম্ (অব্যয় / অবিনশ্বর); বিবস্বান্ (সূর্য); মনবে (প্রথম মানব মনু); প্রাহ (বলেছিলেন); মনুঃ (মনু); ইক্ষাকবে (মহারাজ ইক্ষাকুকে / রঘুবংশের পূর্বপুরুষ); অব্রবীৎ (বলেছিলেন)
*অনুবাদ* :
পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বললেন— আমি এই অবিনাশী যোগের জ্ঞান প্রথমে সূর্যদেব বিবস্বানকে প্রদান করেছিলাম। বিবস্বান সেই জ্ঞান তাঁর পুত্র মনুকে বলেছিলেন, আর মনু সেই জ্ঞান রঘুবংশের পূর্বপুরুষ ইক্ষ্বাকুকে প্রদান করেছিলেন।
*ব্যাখ্যা*
এই শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যোগের প্রাচীন ও পবিত্র জ্ঞান-পরম্পরার কথা বলেছেন।
তৃতীয় অধ্যায়ে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, যোগদৃষ্টিমুক্ত হয়ে যিনি শ্রদ্ধাপূর্বক আমার মতে চলবেন, তিনি সকল কর্মবন্ধন থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবেন। যোগই (জ্ঞানযোগ ও কর্মযোগ) আমাদের কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারে। এই অধ্যায়ে তিনি বলছেন যে এই যোগের আবিষ্কারক কে? কিভাবে এর ক্রমিক বিকাশ হয়?
শ্রীমদ্ভগবদগীতা বহু প্রাচীন কাল থেকে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। আজ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে দ্বাপর যুগে শ্রীগীতার এ অমিয় বাণী কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে অর্জুনকে ব্যক্ত করেছিলেন। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন যিনি মহর্ষি ব্যাসদেব নামে সমধিক পরিচিত তিনি মহাভারত রচনা করে এই কথোপকথন ভীষ্ম পর্বের ২৫ অধ্যায় হতে ৪২ অধ্যায় পর্যন্ত সপ্তশতী শ্লোকে অন্তর্ভূক্ত করেন। অবশ্য শ্রীগীতার উৎপত্তি আর ও অনেক প্রাচীন।
শ্রীমদ্ভগবদগীতার ৪র্থ অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকে এর উৎপত্তি ও ইতিকথা সর্ম্পকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই শ্রীগীতার ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। সূর্যকে একটি শক্তিরূপে কল্পনা করে প্রাচীন কাল থেকে তাকে দেবতা হিসেবে মনে করা হত। তিনি সকল গ্রহের রাজা। অশেষ তেজবিশিষ্ট এবং জগতের চক্ষুস্বরূপ। মানুষ যেমন চক্ষু ব্যতীত কোন কিছু দেখতে পায়না তেমনি সূর্য ছাড়া সারা পৃথিবী অন্ধকার। তিনি অন্যান্য গ্রহকে তাপ ও আলো দান করেন। ভগবান অতি কৃপা করে প্রথম শিষ্যরূপে সূর্যদেব (বিবস্বান)কে গ্রহণ করেন এবং তাকে শ্রীমদ্ভগবদগীতার সমুদয় জ্ঞান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিবস্বানের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজাদেরকেও তা দান করেছিলেন। পৃথিবীতে যখন ত্রেতা যুগ শুরু হয় তখন তার প্রারম্ভে ভগবত্তত্ত্ব জ্ঞান বিবস্বান (সূর্যদেব) মানব জাতির জনক মনুকে দান করেন। মনু পরবর্তীকালে এই তত্ত্বজ্ঞান তার পুত্র সসাগরা পৃথিবীর অধিশ্বর এবং রঘু বংশের জনক ইক্ষ্বাকুকে দান করেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে রঘু বংশে শ্রীরামচন্দ্র আর্বিভূত হন। অতএব এই শ্রীগীতার তত্ত্ববাণীর জ্ঞান শুরু থেকে শিষ্যতে পরম্পরাক্রমে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত ও প্রবাহিত হয়ে আসছে।
*শিক্ষা* :
জ্ঞান চিরন্তন: সত্য ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান যুগে যুগে মানুষের কল্যাণের পথ দেখায়।
গুরু-শিষ্য পরম্পরা: যথাযথভাবে জ্ঞান গ্রহণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
No comments:
Post a Comment